ঢাবিতে বিপুল ভুয়া শিক্ষার্থী!

।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।। এপ্রিল ০৪, ২০০৭, বুধবার : চৈত্র ২১, ১৪১৩ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকসংখ্যক ভুয়া শিক্ষার্থীর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছেমাত্র তিনটি বিভাগে আংশিক যাচাই-বাছাই করার পর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেঅন্য বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতেও যে ভুয়া শিক্ষার্থী রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি স্পষ্টসংশ্লিষ্টদের ধারণা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজারের অধিক ভুয়া শিক্ষার্থী রয়েছে 

এ সংক্রান্ত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রধান প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আফম ইউসুফ হায়দার বলেছেন, যেখানেই হাত দিচ্ছেন, সেখানেই ভুয়া শিক্ষার্থী চিহ্নিত হচ্ছেভিসি অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ভুয়া ভর্তি সংক্রান্ত জালিয়াতিচক্রের সঙ্গে যার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে তার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে 

নব্বুইয়ের দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুয়া ভর্তি সংক্রান্ত জালিয়াতিচক্র ধরা পড়লেও তখন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়নিএরপর ২০০৬ সালে লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষে একসঙ্গে ১১ জন ভুয়া শিক্ষার্থী ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষের টনক নড়েএ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি তদন্ত করতে গিয়ে কেবল প্রথম বর্ষ যাচাই করে আরো ১১ জন ভুয়া শিক্ষার্থী চিহ্নিত করেঅন্য বর্ষেও অধিকসংখ্যক ভুয়া শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানান তদন্ত কমিটির এক সদস্য 

ভুয়া ভর্তিকারী জালিয়াতিচক্র একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটবিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র এবং বাইরের একটি চক্র এর সঙ্গে সম্পৃক্ততথ্যানুসন্ধান কমিটির এক সদস্য জানান, বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবনের ভর্তি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডীন, অনুষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং হল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছেএছাড়া ভুয়া ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র এবং বাইরের একটি চক্র বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ভুয়া ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করে 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটা পদ্ধতি, পুনঃভর্তি এবং মাইগ্রেশনের মাধ্যমে ভুয়া ভর্তি সম্পন্ন হয়৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে প্রথম বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা দিতে এসে দুই ভুয়া শিক্ষার্থী ধরা পড়েএরপর অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিটি বর্ষ যাচাই শুরু করেনপ্রাথমিক যাচাইয়ের পর প্রথম বর্ষে ১৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন ভুয়া শিক্ষার্থী চিহ্নিত হয়েছেএছাড়া দ্বিতীয় বর্ষে ৩ জন এবং তৃতীয় বর্ষে ২ জন ভুয়া শিক্ষার্থী চিহ্নিত হয়েছেস্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও রয়েছে এ বিভাগে 

অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ভুয়া ভর্তি শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র পেশ করেনসংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে প্রমাণিত হয় ভুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ অন্যের রোলনম্বর ব্যবহার করেছে, ভুয়া মাইগ্রেশন দেখিয়েছে, অনেকের ডীন অফিস থেকে প্রেরিত কোটার তালিকায় নাম নেইতারা ভর্তি হয়েছে এক থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে 

সিন্ডিকেট সভায় ভুয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয় এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভর্তি শাখার কর্মচারী আমিনুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আবুল হোসেন এবং অর্থনীতি বিভাগের বিমলচন্দ্রকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়ঐ সভায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ডীনদের নির্দেশ দেয়া হয়তবে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ডীনদের কাজের তেমন কোন অগ্রগতি নেইআজ বুধবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগের চেয়ারম্যানরা ভুয়া শিক্ষার্থী চিহ্নিত সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনায় বসবেনএদিকে গতকাল মঙ্গলবার ভিসি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত বিধি পুনরায় ডীনদের কাছে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন 

ভুয়া শিক্ষার্থী এবং জালিয়াতিচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ ও সিআইডিকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছেযে সকল শিক্ষার্থীর ভর্তি ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে তাদের ভর্তি স্বচ্ছ’-এ সংক্রান্ত কোন প্রমাণ থাকলে তা নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে তথ্যানুসন্ধান কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে 

ভর্তি সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা-২) মোজাম্মেল হকএ পর্যন্ত যত ভুয়া শিক্ষার্থী চিহ্নিত হয়েছে অধিকাংশেই তার নিজের স্বাক্ষর রয়েছেজালিয়াতিচক্র ডীন এবং প্রভোস্টদের স্বাক্ষর নকল করলেও মোজাম্মেল হকের নিজের স্বাক্ষরই রয়েছে ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্রেএ নিয়ে প্রশাসনিক ভবনেও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে 

এ ব্যাপারে মোজাম্মেল হক জানান, তার স্বাক্ষর নকল করা হয়েছেজালিয়াতিচক্রের সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই 

তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রধান প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আফম ইউসুফ হায়দার বলেন, বিভাগের শিক্ষার্থীদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সিন্ডিকেট ডীনদের এক মাসের সময় দিয়েছিলএ কাজের অগ্রগতি নিয়ে কমিটি ৯ এপ্রিল সভায় মিলিত হবেতিনি বলেন, অতীতেও ভুয়া ভর্তি হয়েছেসে সময়ে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নিতবে এখন প্রমাণ মিললে তাদের সার্টিফিকেট বাতিল হতে পারেতিনি বলেন, ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে 

তথ্যানুসন্ধান কমিটির এক সদস্য গতকাল এ প্রতিনিধিকে জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রথমবর্ষে ৭/৮ জন ভুয়া শিক্ষার্থী চিহ্নিত হয়েছেবিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটগুলো সম্পর্কে ব্যাপক অভিযোগ আসছে 

Source: http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/04/04/w/n_ztmtqx

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s