বাংলাদেশের কৃষিপণ্য: বিশ্ববাজারে রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা

এস,এম, আলমগীর হোসেন 


বাংলাদেশ মৌসুমী জলবায়ুর দেশএদেশ পৃথিবীর অন্যতম উর্বর পলিগঠিত বলে ঐতিহাসিকভাবেই কৃষিতে সমৃদ্ধশালীতাই এদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তিই হচ্ছে কৃষিএদেশে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শস্য ব্যবস্থারও পরিবর্তন হয়যার জন্য এদেশে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য যেমন শাকসব্জি, ফলমূল, ফুল ও বিভিন্ন ভেষজ সামগ্রী উৎপাদিত হয়ে থাকেএ সকল কৃষিপণ্যের বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছেবিভিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসকল কৃষিপণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ খুব সহজেই স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারে 

কৃষি প্রধান দেশ হয়েও বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির তালিকা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছেমানুষের খাদ্যাভাস পরিবর্তন ও বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে আজ যে পণ্যের চাহিদা থাকে কাল তার চাহিদা কমে যায়এভাবে সময়ের প্রেক্ষাপটে কৃষিপণ্য রপ্তানির তালিকা বাড়তে থাকেঅপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি তালিকায় স্থান পায়বর্তমানে অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের তালিকা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছেখেজুরের রস হতে শুরু করে কচু, মুড়ি, কলা-বাঁশ-বেত, বাঁশের মুড়ো, শুকনো গোবর, তিল, তিসি ইত্যাদি রপ্তানি হচ্ছেবাংলাদেশের হালাল মাংস, শাক-সবজি, ফলের জুস, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফুল, বিভিন্ন প্রকার ফল, শীতল পাটি, প্রভৃতিও বিদেশে রপ্তানি হচ্ছেজানা যায় ২০টি দেশে ৩৫ ধরনের কেবল শাক-সব্জিই রপ্তানি হচ্ছে এবং তা থেকে ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে ৪ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়চলতি ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে আয় ১৬ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে 

অনেক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ফুল রপ্তানি হত ইংল্যান্ড ও অষ্ট্রেলিয়ায়ইপিবির সূত্রমতে ১৯৯৩-৯৪ সালে ১২ হাজার টাকা, ১৯৯৪-৯৫ সালে ১৬ হাজার টাকা এবং ২০০৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০০ কোটি টাকায়বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ফুল রপ্তানি হচ্ছেবিভিন্ন দেশে গোল আলুর ফ্লেক বা গুঁড়ার চাহিদা ব্যাপকইউরোপীয় দেশগুলোতে আলু ফ্লেক্সের প্রতি কেজির দাম গড়ে ৫-৭ ডলারের মতচীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত প্রভৃতি দেশ লতা, গুল্ম, পাতা এমনকি গাছের শিকড় রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেআমাদের দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ওষুধি গাছের লতাপাতা, শিকড় গুল্মজাতীয় বিভিন্ন গাছ বিদেশে রপ্তানি করা যেতে পারেচীন, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে সব্জি রপ্তানি করে একচেটিয়াভাবেবাংলাদেশ মাত্র বিশ্ব সব্জি বাজারের শতকরা ২ দশমিক ৫ ভাগ সরবরাহ করে 

বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি বৃদ্ধিতে আমরা অগ্রসর হতে পারছি না বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার কারণেরপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমাদের অবশ্যই এসকল সমস্যার কিভাবে সমাধান করা যায় তা চিহ্নিত করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবেপৃথিবীর অন্যান্য দেশের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখা গেছে তারা পণ্যের সংরক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদন কৌশল উন্নতকরণ, পরিবহন সমস্যা দূরীকরণ, মোড়ক ও প্যাকেটজাতকরণের উন্নয়ন করে থাকেতাই বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন পণ্যের কাটিং, প্রসেসিং, প্যাকেজিং, গ্রেডিং, টেস্টিং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করাতবেই আমরা বিশ্বের কৃষিপণ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে খুব সহজেই পরিণত হতে পারবো 

দৈনিক ইত্তেফাক এপ্রিল ০৪, ২০০৭, বুধবার : চৈত্র ২১, ১৪১৩http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/04/04/w/n_ztmzvv  

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s