বিজ্ঞানীরা আশাবাদী ।। পরীক্ষা সফল হলে ব্লাড গ্রুপ নিয়ে রোগীকে ভাবতে হবে না

রোগীর রক্তের গ্রুপ লেখা কাগজ নিয়ে ব্লাড ব্যাংকে দৌড়ঝাঁপের দিন বোধহয় শেষ হতে চলেছেকারণ, যে কোনও দাতাই এবার অন্য যে কাউকে হেলায় রক্ত দিতে পারবেন 

বিজ্ঞানীরা ব্যাকটিরিয়ার মধ্যে এমন দুটো এনজাইম আবিষ্কার করে ফেলেছেন, যা লোহিত রক্তকণিকার এবং বিঅ্যান্টিজেনকে বিলীন করে দেয়ফলে ’, ‘বি’, ‘এবিকিংবা গ্রুপের আলাদা আলাদা অস্তিত্বই থাকবে না বলে দাবি করেছে ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অফ কোপেনহেগেনে গবেষণারত এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীগোষ্ঠীতাদের গবেষণাপত্রটি নেচার বায়োটেকনোলজিনেচারপত্রিকায় এটি প্রকাশিত হয়েছে 

ওই বিজ্ঞানীদের দাবি, এনজাইম দুটির রাসায়নিক গুণাগুণ পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল মিলেছেএখন তাঁরা দেখতে চান, সে দুটির প্রতিক্রিয়া রক্তের মধ্যে কত দিন সক্রিয় থাকে, এবং তা কতটা নিরাপদপরীক্ষার এই ধাপ পেরোলেই এনজাইম দুটির আসল গুণাগুণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবেব্যাকটিরিয়া থেকে পাওয়া গ্লাইকোসাইডেস প্রজাতির ওই দুই ব্যাকটিরিয়া বি এনজাইম-এর সাহায্যেই রক্তদান সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সমাধান করা যাবে বলে তাঁদের আশাহেনরিক ক্লোজেনের নেতৃত্বাধীন বিজ্ঞানীগোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত এনজাইম দুটি বাকি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্ত চেয়ে ব্লাডব্যাংকে হন্যে হয়ে ধরনা দিতে হবে না 

রক্তের লোহিতকণিকায় শর্করা জাতীয় অ্যান্টিজেন এএবং অ্যান্টিজেন বি’-র উপস্থিতির উপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এবিওব্লাড গ্রুপ ব্যবস্থাটিএ ব্লাড গ্রুপের লোকের রক্তে আছে অ্যান্টিজেন এবং বিঅ্যান্টিবডিবিব্লাড গ্রুপের রক্তে আছে উল্টোটা-অর্থাৎ বিঅ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডিগ্রুপের রক্ত বিগ্রুপের কাউকে অথবা বিগ্রুপের রক্ত গ্রুপের কাউকে দিলে দাতা, গ্রহীতার অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডি মিশ খায় নাবরং লোহিতকণিকার মৃত্যু ঘটেসংশ্লিষ্ট রক্তগ্রহীতারও মৃত্যু হয়কিন্তু গ্রুপের রক্তে ’ ‘কিংবা বি’-কোনও অ্যান্টিজেন নেইফলে ওই রক্ত যে কাউকে দেওয়া যায়গ্রহীতার রক্তে তা কোনও বিক্রিয়া ঘটায় নাতার তাই ব্লাড গ্রুপের মানুষদের সর্বজনদাতাহিসেবে চিহ্নিত করা হয়ব্যাকটিরিয়া থেকে পাওয়া দুটি গ্লাইকোসাইডেস এনজাইমের একটি অ্যান্টিজেন এবং অন্যটি অ্যান্টিজেন বি’-কে লোহিতকণিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেআর রক্ত থেকে অ্যান্টিজেন সরলে গ্রুপের রক্তকে অনায়াসেই বি’, ‘এবি’, কিংবা গ্রুপে পরিবর্তন করা সম্ভব হবেওই পরিবর্তিত রক্ত যে কাউকে দেওয়া যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের দাবি 

এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য আমেরিকার এক বায়োটেকনোলজি সংস্থা ইতিমধ্যেই ওই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেতবে ক্লোজেন গোষ্ঠীর গবেষণার ফলাফল বিশদে পর্যালোচনা না করে এই বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাইছেন না ভারতের বিজ্ঞানীরাস্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মেডিক্যাল বায়োটেকনোলজির প্রধান সমরেশ চৌধুরীর কথায় এখনও অনেক দূর যেতে হবে ওঁদেরপরবর্তী পরীক্ষাগুলো মানুষের দেহে কতটা সফল হয়, তার উপরেই নির্ভর করছে সব।-আনন্দবাজার পত্রিকা 

দৈনিক ইত্তেফাক এপ্রিল ০৪, ২০০৭, বুধবার : চৈত্র ২১, ১৪১৩http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/04/04/w/n_ztmutq

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s