চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করল টেলিসেন্টার আন্দোলন

গত বছরের আগস্ট মাসে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা শহর রংপুরে বাংলাদেশে টেলিসেন্টার স্খাপনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত বিল্ডিং টেলিসেন্টার ফ্যামিলি ইন বাংলাদেশশীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়ঐ কর্মশালার সমাপনী দিনে ভারতের মিশন ২০০৭এর আদলে বাংলাদেশে মিশন ২০১১আন্দোলন শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়মিশন ২০০৭এর মাধ্যমে ভারতজুড়ে বর্তমান ২০০৭ সালের মধ্যে ৬ লাখ গ্রামের প্রত্যেকটিতে একটি করে টেলিসেন্টার স্খাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিলসে উদ্যোগের সাফল্য থেকে উৎসাহিত হয়ে এবং তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দারিদ্র বিমোচনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, দাতা সংস্খা, এনজিওসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৪০ বছর পুর্তিতে ২০১১ সালের মধ্যে দেশে ৪০ হাজার টেলিসেন্টার স্খাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছেএরই ধারাবাহিকতায়মিশন ২০১১কে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ বছরের ১৩ জানুয়ারী একটি পরামর্শ সভার মাধ্যমে ব্র্যাকনেটের চেয়ারম্যান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে এডহক ভিত্তিতে বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্কের একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়কার্যকরী কমিটির মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ নেটওয়ার্কের (ডি.নেট) নির্বাহী পরিচালক ড. অনন্য রায়হাননির্বাহী সদস্য হিসাবে রয়েছেন আমাদের গ্রামপ্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রেজা সেলিম, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশনের (বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান, ব্র্যাকেনেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ কাদের, ডিজিটাল নলেজ ফাউন্ডেশনের (ডিকেএফ) চেয়ারম্যান টিআইএম নুরুল কবির, ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের ই-ডেভেলপমেন্ট ক্লাস্টারের ক্লাস্টার প্রধান কেএএম মোর্শেদ এবং ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশনের (ইপসা) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এই নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা হিসাবে দাযিত্ব পালন করছেনগত ১০ এপ্রিল চট্টগ্রামের হোটেল সেন্ট মার্টিনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্কের (বিটিএন) আয়োজনে প্রথম বিভাগীয় পরামর্শ সভামিশন ২০১১বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে টেলিসেন্টার ধারণাকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশনের (ইপসা) সহযোগিতায় বিশ্বব্যাপী টেলিসেন্টারআন্দোলনের চালিকাশক্তি হিসাবে পরিচিত কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টেলিসেন্টার ডট অর্গ ও ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের সহায়তায় মিশন ২০১১ : বাংলাদেশে টেলিসেন্টার পরিবার গড়ে তোলাশীর্ষক এ বিভাগীয় পরামর্শ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়প্রধান অতিথি হিসাবে পরামর্শ সভাটি উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহিউদ্দিন আহমেদএ সময় তিনি বলেন গ্রামে গ্রামে টেলিসেন্টার স্খাপিত হলে মানুষের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তার পাশাপাশি গ্রামের একটি বিরাট জনগোষ্ঠির চাকুরীর সুযোগ তৈরি হবেতথ্যপ্রযুক্তির সাথে গ্রামীণ প্রান্তিক মানুষের সংযোগ না ঘটিয়ে বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেনডিজিটাল নলেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান টিআইএম নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্মশালার অন্যতম আয়োজক ইপসার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিটিএনর নির্বাহী সদস্য আরিফুর রহমানতিনি বলেন এ ধরনের বিভাগীয় কর্মশালার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের পরামর্শ নেয়া হবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষ কিভাবে উপকৃত হতে পারে – সে বিষয়টিকে মিশন ২০১১বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবেতিনি মিশন ২০১১বাস্তবায়নে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেনবিটিএনর চেয়ারম্যান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী দেশের বাইরে অবস্খান করায় মহাসচিব ড. অনন্য রায়হান তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন টেলিসেন্টার ডট অর্গ সাউথ এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ড. বশিরহামাদ সাদ্রাক, বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমানবক্তারা বলেন বাংলাদেশে ইতিমধ্যে টেলিসেন্টার ফ্যামিলি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হযেছে, এখন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিযে যাওয়া দরকারসবাই একসঙ্গে কাজ করলে অনেক কাজই সহজে করা যায়, যা একা কারও পক্ষে সম্ভব নয় টেলিসেন্টার গ্রামীণ মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার একটি বিকল্প প্রতিষ্ঠান হিসাবেও কাজ করতে পারেতথ্যপ্রাপ্তির বিষয়টিকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসাবে চিন্তা করে সবাইকে একসাথে কাজ করার কথা বলেন বক্তারাএই টেলিসেন্টার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্খানের একটি বিরাট সুযোগ তৈরি হবেউদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিটিএনর মহাসচিব ড. অনন্য রায়হান মিশন ২০১১এবং বিটিএনর সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেনতিনি বলেন দেশের সবগুলো বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হবেপরামর্শ সভাগুলোকে সমন্বয় করে আগামী জুন মাসে ঢাকায় চুড়ান্ত পরামর্শ সভার মাধ্যমে মিশন ২০১১এবং বিটিএনর পুর্ন কার্যক্রম শুরু হবেসেখানে বিভাগীয় পর্যায়ের সব পরামর্শ ও সুপারিশের ভিত্তিতে বিটিএনর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবেসেই অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবেমিশন ২০১১উদ্বোধন করা হবে এবং বিটিএনর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবেতিনি বলেন টেলিসেন্টারের মাধ্যমে সঠিক, সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবেস্খানীয় মানুষের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যদি তথ্যের সমন্বয় না করা যায় তাহলে টেলিসেন্টার, তথ্যকেন্দ্র, জ্ঞানকেন্দ্র কোন কিছুই মানুষের কাজে আসবে নাগ্রামীণ মানুষের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবকতাগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতায়ানের অভাব, সচেতনতার অভাব, জানার সুযোগের অভাব, স্খানীয় মানুষের উপযোগী প্রযুক্তির অভাব টেলিসেন্টার স্খাপনের ক্ষেত্রে এসব সমস্যাগুলোকে টার্গেট করা না হলে মিশন ২০১১বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বেএক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, দাতা সংস্খা সবাই একসাথে কাজ করতে হবেপরামর্শ সভায় টেলিসেন্টার তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হয়দিনব্যাপী পরামর্শ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খ্যাতনামা অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম, গ্রামীণফোনের ফাইবার অপটিক বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুলতানুর রেজা এবং ডি.নেটের পরচিালক মাহমুদ হাসানইতিমধ্যে গ্রামীণফোন, আমাদের গ্রাম প্রকল্প, বিএনএনআরসি, ইপসা, ক্যাটালিস্ট, লার্ন ফাউন্ডেশন, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল, ব্র্যাকনেট.নেট, ঢাকা আহসানিয়া মিশন, ডিজিটাল ইক্যুইটি নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নলেজ ফাউন্ডেশন, ডি.নেট, গ্রামীণ কমিউনিকেশন, প্র্যাকটিক্যাল একশন, প্রশিকা, এসডিএনপি, সেবাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশে অনেকে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন ভিন্ন নামে সফলতার সাথে টেলিসেন্টার বা তথ্যকেন্দ্র পরিচালনা করছেযদিও বেশকিছু তথ্যকেন্দ্রেও সেবার বিষয়ে এখনো মানুষের অস্পষ্টতা রয়েছেডি.নেটের নির্বাহী পরিচালক এবং বিটিএনর মহাসচিব ড. অনন্যা রায়হান বলেন বিটিএন মুলত বিভিন্ন টেলিসেন্টার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি কমন গ্রাউন্ড হিসাবে কাজ করবেএর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার পাশাপাশি সেবার মানও নিশ্চিত করা সম্ভব হবেবর্তমানে ১৬টি প্রতিষ্ঠান বিটিএন সদস্য হয়েছে, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও দ্রম্নত বিটিএনর সদস্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেনতিনি জানান টেলিসেন্টার আন্দোলনের সাথে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিটিএনর সদস্য হতে পারবেমিশন ২০১১ সম্পর্কিত আরো তথ্য পাওয়া যাবে লিখেছেন মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন, দৈনিক সংবাদ, ২২ এপ্রিল ২০০৭

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s