প্রসঙ্গ : ইউজিসি কর্তৃক শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ

মো শা রে ফ হো সে ন
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ৭ জুন ২০০৬

কিছুদিন ধরে কোনো কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অভিযুক্ত কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষক (যারা নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত) পাঠ প্রদান করছেন, তাদের নীরবতা আমাদের বিস্মিত করেছে। কিছু পত্রিকা ঢালাওভাবে যে প্রতিবেদন ছাপিয়েছে, তাতে প্রশ্ন জাগে। কেননা প্রতিবেদনগুলোতে গভীরতা নেই, নেই বিশ্লেষণধর্মী মতামত। শুধু ইনিয়ে-বিনিয়ে একটি কথা­‘এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জাত নেই, মান নেই­ তাই বাধ করে দাও।’ যে পত্রিকা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বুলি আওড়ায়, সেই পত্রিকায়ও বিজ্ঞাপনের পাতায় রয়েছে ‘অমুক মায়ের চ্যালেঞ্জ’, ‘তমুক বাবার দোয়ায় শিশুসন্তানপ্রাপ্তি’ থেকে শুরু করে পৃথিবী সব সমস্যা সমাধানের বিজ্ঞাপন। তারা বিজ্ঞাপন ছাপানোর লোভ সামলাতে পারেনি।

বর্তমানে সংবাদপত্র একটি শিল্প। অর্থাৎ বাণিজ্যের হাতিয়ার। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সংবাদপত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা সহজে সমাজের সবাইকে প্রভাবিত করতে পারে। অতএব, পত্রিকা যেমন অপপ্রচার চালানোর হাতিয়ার, তেমনি সচেতন করার মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে পারে।

পত্রিকায় বিনিয়োগ লাভজনক বিধায় ইদানীং কিছু শিল্পপতি বা গোষ্ঠী এই খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করছেন। এর দুটি কারণ থাকতে পারে­ ক. বিজ্ঞাপন বাণিজ্য, খ. নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা অথবা প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা। তাদের অনেকের আবার বাংলাদেশে নামীদামি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা রয়েছে। আসলে কিছু পত্রিকা বিশেষ শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। বাণিজ্যের স্বার্থে এই পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে যখন যাতে লাভ হয়, লোভ হয় অথবা রাগ হয়­ তা নিয়েই রিপোর্ট ছাপাচ্ছে। এমন পত্রিকার সংবাদ প্রচারে নির্ভীক-নিরপেক্ষ ইত্যাদি নানা স্লোগান কি হাস্যকর নয়? এই ছদ্মাবরণ কি সরলমনা পাঠকের সাথে প্রতারণার শামিল নয়?

এবার আসুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবিষয়ক বিতর্কের প্রশ্নে।

ক. ইউজিসি’র অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্তমান আইনে অনুমোদনহীন বলছে, সেগুলোর ব্যাপারে অনুমোদন প্রদানের আইনগত ক্ষমতা তাদের নেই। তাহলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ‘অনুমোদনহীন’ হলো কিভাবে? এ বিষয়ে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে নীতিমালা প্রণয়নসাপেক্ষে অনুমোদন চেয়ে আসছিল, যাতে সেগুলোতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত হয়। কিন্তু ইউজিসি ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ কাজ না করে ‘আন্ডার দ্য কাউন্টার’ কাজ করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য বা প্ররোচিত করেছে।

খ. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই: যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রকৌশল শিক্ষা প্রদান করে, তাহলে তাদের বিশেষ ধরনের অবকাঠামো আবশ্যক। নতুবা দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করতে ব্যর্থ হবে। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান তাত্ত্বিক শিক্ষা দিচ্ছে? অর্থাৎ ব্যবসায় প্রশাসন, আইন বা অন্যান্য বিষয়, সে প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশাল মাঠ বা বড় বিল্ডিংয়ের তুলনায় বেশি প্রয়োজন শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষক, যিনি পাঠদান (ইনপুট) করবেন এবং ছাত্ররা বিষয়টি আত্মস্খ করে যথাযথ জ্ঞানের প্রয়োগ (আউটপুট) করতে পারবে। এখানে প্রয়োজন পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এক হওয়ার প্রয়োজন নেই। ইউজিসি অবঠাকামোর ধুয়া তুলে ৫ কোটি টাকা জমা, ঢাকা শহরে পাঁচ একর জায়গা, তদুপরি ২০০-৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে। ইউজিসি’র মান অনুযায়ী অবকাঠামোসমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর টিউশন ফি কত হবে? কারা পড়বে এখানে? শুধু ধনিক শ্রেণীর লোকজনের সন্তানরা পড়াশোনা করবে? আমার বাবা শ্রমিক-কৃষক বা সরকারি চাকরিজীবী (সৎ) হলে কোনো দিনই এমবিএ করার স্বপ্ন দেখতে পারব না? ইউজিসি অবকাঠামোর কথা বলে শুধু গুটিকয়েক ধনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র ব্যবসার পথ প্রশস্ত করেছে না?

গ. শিক্ষার মান: ইউজিসি শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবৈধ ঘোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক বেশি মানসম্মত পাঠদান করছে। তা ছাড়া ধনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে ধরনের নিজস্ব ফ্যাকাল্টি ব্যবহার করে, সে তুলনায় অবৈধ ঘোষিত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নামকরা শিক্ষকরা ছাত্রদের পাঠদান করছেন। তিনটি পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রিধারী প্রফেসরের তুলনায় সাধারণ মাস্টার্স (দেশের বাইরে বা ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ছাত্রও ইংরেজি বলায় খুবই দক্ষ) ভালো পাঠদান করছে, কী করে ইউজিসি এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হলো? অবৈধ ঘোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভুয়া সার্টিফিকেট দিচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত নই। যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দাবি করে, তার প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের অমুক বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, তাহলে বাংলাদেশে সে দেশের দূতাবাস বা সে দেশে অবস্খিত বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে এ বিষয়ে যাচাই করে নেয়া যেতে পারে। ওয়েব সাইটভিত্তিক কিছু ভুয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে ভুয়া সার্টিফিকেট দিতে পারে। কিন্তু বিষয়টি সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে কিছু রয়েছে, যারা বিশ্বের উন্নত দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়া কিউসি, অর্থাৎ মান নিয়ন্ত্রণের মাঝে পরিচালনা করতে হয়। ছাত্র ভর্তি, শিক্ষক নির্বাচন, সঠিক গ্রেডিং প্রদান, পরীক্ষার খাতা প্রেরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক কড়াকড়ির মধ্যে থাকতে হয়।

ঘ. সার্বজনীন শিক্ষা: ইউজিসি শিক্ষার প্রসারের কাজে নিয়োজিত, নাকি শিক্ষার সুবিধা সঙ্কুচিত করার কাজে লিপ্ত? এই প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীতে যখন অর্থনীতির পাগলা ঘোড়া ছুটছে, যখন সব কোম্পানি-প্রতিষ্ঠান উচ্চশিক্ষিত দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন অনুভব করছে, তখন ইউজিসি কৌলীন্যের দোহাই দিয়ে শুধু কিছুসংখ্যক উচ্চশিক্ষালয়, আরও নির্দিষ্ট করে বললে কেবল একটি বিশেষ শ্রেণীর জন্য শিক্ষার দ্বার খোলা রাখতে চায় কি? আর্থিকভাবে পশ্চাৎপদ বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বার্থে সব উন্নয়নশীল দেশ অবাধ শিক্ষার সুযোগ দিয়েছে। কারণ প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি তৈরি।

এখন ইউজিসি’র অনুমোদনহীন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা শোনাব। ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন কারণে এমনই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমার যাতায়াত বা যোগাযোগ প্রায় চার বছর ধরে। এটি কানাডার ভিক্টোরিয়ার বিখ্যাত রয়েল রোডস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এই ইউনিভার্সিটি কানাডার একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। পিএমএল’র মতো চায়নায় ছয়টি, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, হংকং, সার্বিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েল রোড্স ইউনিভার্সিটির স্টাডি সেন্টার রয়েছে। অর্থনীতিতে অগ্রসরমান দেশগুলোতে এই ইউনিভার্সিটির স্টাডি সেন্টার রয়েছে। কেননা, রয়েল রোডস ব্যবসায় প্রশাসনের ব্যতিক্রমধর্মী এমবিএ প্রোগ্রাম চালু করছে। প্রোগ্রামটি মধ্যম ও উচ্চসারির কর্মকর্তাদের জন্য পরিকল্পিত। কেননা এ ধরনের ছাত্রদের রয়েছে ব্যবহারিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। তাদের প্রয়োজন তাত্ত্বিক জ্ঞান ও এবং উভয়ের সমন্বয়। এ কারণে চীন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া ও হংকংয়ে এই প্রোগ্রাম অত্যন্ত জনপ্রিয়। রয়েল রোডস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘এমআইএসটি’র মতো। কোনো ছাত্র সরাসরি রয়েল রোডস ইউনিভার্সিটিতে এই প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে ৬০ হাজার ইউএস ডলার প্রয়োজন। পক্ষান্তরে পিএমএল-এ মাত্র ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ডলারে সম্পন্ন করা সম্ভব।

ক) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি শুধু তিনটি বিষয়ে এই প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। তারা নানাভাবে রয়েল রোডস ইউনিভার্সিটির কাছে দায়বদ্ধ। শিক্ষকদের জীবনবৃত্তান্ত ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হয়। শুধু তাদের নির্বাচিত শিক্ষকরাই পাঠদান করাতে পারবে। শিক্ষকদের অবশ্যই একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স অথবা ডক্টরাল ডিগ্রি থাকতে হবে।

খ) মান নিয়ন্ত্রণ : সংশ্লিষ্ট কোর্স শেষে শিক্ষকপ্রদত্ত গ্রেডিং রয়েল রোডস ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হয়। এরপর দৈবচয়ন ভিত্তিতে ২০ শতাংশ ছাত্রের পরীক্ষার খাত ওই ইউনিভার্সিটি চেয়ে পাঠায়। ওই খাত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি গ্রেডিং বিষয়ে তারা সন্তুষ্ট হয় এরপর ওই গ্রেডিং অনুমোদিত হয়। ছাত্ররা তাদের সম্পূর্ণ ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে পারে এবং কানাডায় অবস্খিত ক্যাম্পাসে ছাত্রদের স্ট্যাটাসের মাঝে কোনো তারতম্য নেই।

গ) সার্টিফিকেটের সঠিকতা : ছাত্রদের কনভোকেশন রয়েল রোডস ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে প্রতিবছর দু’বার অনুষ্ঠিত হয়। পিএমএল থেকে এমবিএ সম্পূর্ণ করা ছাত্ররাই কানাডা কনভোকেশনে উপস্খিত হয়ে সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে পারবেন। এই ডিগ্রির অধিকারী কানাডার যেকোনো সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। (কানাডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটকে বাংলাদেশ সরকার অবৈধ বা ভুয়া বলা কতটা যুক্তিসঙ্গত?)

ঘ) বৈদেশিক মুদ্রা : কানাডায় বসবাসরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৪ শতাংশ টিউশন ফি প্রদান করে তাদের ডিগ্রি অর্জন করে পুনরায় কানাডা ফিরে গেছেন।

ব্যক্তিগতভাবে জানি, এর ছাত্ররা সবাই সামরিক বাহিনী, মেরিন, বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যাংকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা প্রত্যেকে নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। এ ধরনের ছাত্র সার্টিফিকেট ক্রয় করতে চায় না। তারা চায় তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও মূল্যবান সময়ের বিনিময়ে কিছু শিখতে। জ্ঞানের কিছু মূল্য সংযোজন ভেলুএডেড টু নলেজ (ভিএকে)। এখানে কোনোভাবে নিুমানের পাঠদান করে বা পড়াশোনা না করে সার্টিফিকেট যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি দেওয়াও সম্ভব হয় না। সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বা কর্নেল পদবির বহু ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পক্ষান্তরে এখানে দেশের নামকরা শিক্ষকরা ক্লাস নেন। ইউজিসি’র সংজ্ঞায় আপনি কিভাবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে বিচার করবেন?

বরং আমাদের দেশে এ ধরনের আরো অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দরকার। ইউজিসি নিম্নবর্ণিত সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে। এতে করে সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না।

ক. জরুরি ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন।

খ. যেসব বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করছে, তাদের জন্য শ্রেণীভেদে বিভিন্ন ধরন ও অবকাঠামোসহ নিয়মাবলি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

গ. বিদেশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসগুলোর সঠিকতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে অনুমোদন প্রদান।

ঘ. শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে কারিকুলাম অনুমোদনের জন্য নীতিমালা। এ ক্ষেত্রে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর কারিকুলাম অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

ঙ. ইউজিসি সদস্যদের মনোনীত ব্যক্তিদের এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডির সদস্য করা বাধ্যতামূলক।

চ. ইউজিসি’র পরিদর্শন ও পরামর্শ প্রদানের নীতিমালা তৈরি।

ছ. বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ টিউশন ফি নির্ধারণের নীতিমালা তৈরি।

জ. ক্রেডিট ট্রান্সফারের বিষয়ে যেকোনো ঘোষণার সত্যতা প্রমাণের জন্য নীতিমালা তৈরি ইত্যাদি।

ছাত্রদের সাথে অনেক ধনী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জনসাধারণের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি গভীর সমর্থন রয়েছে। কিন্তু সরকারের ছায়ায় কেউ যেন অন্যায় স্বার্থসিদ্ধি না করতে পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু নীতিমালা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সঠিক মানের শিক্ষা, ছাত্র প্রতারণা বাধ করা। কিন্তু চোর বাছাইয়ের নামে গাঁ উজাড় করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার শিক্ষা সঙ্কোচনের অপবাদ গায়ে না নিয়ে সঠিক নীতিমালা প্রণয়নপূর্বক শিক্ষা প্রসারের পথ প্রদর্শন করা উচিত।

লেখক : একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত
mosharef.moroshed @gmail.com

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s