বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬ শাখাকে আইনি কাঠামোয় আনা হচ্ছে

বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত অবৈধ ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য নির্ধারণের ব্যাপারে পুনরায় ভাবছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানকে আইনের কাঠামোয় নিয়ে আসতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নও প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি মাসের শেষ দিকে সুপারিশগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হবে বলে ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, শর্ত পূরণকারীরাই কেবল তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এ ছাড়া বাকিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্খা নেয়া হবে।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২ ও সংশোধিত আইন ১৯৯৮ লঙ্ঘন করে দেশে পরিচালিত ৫৬টি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখাকে অবৈধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। বিদেশী এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নাম নিয়ে দীর্ঘদিন তারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইউজিসি’র অনুমোদন না নিয়েই বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি দেয় শিক্ষার্থীদের। এগুলো হলো ধানমন্ডির হেড ওয়ে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, নিউ ক্যাসেল ল’ অ্যাকাডেমি, সেন্টার ফর ম্যানেজমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ভূঁইয়া একাডেমি, ম্যাপেললিফ ইনফরমেশন সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ ইনস্টিটিউট অব ল’, ইনভায়রনমেন্ট এগরিকালচার এন্ড ডেভেলপমেন্ট সারভিস লিমিটেড (ইএডিএস), ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (ডব্লিউআইবিটি), বানানীর ম্যানট্রাস্ট ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, লালমাটিয়ার নর্থ এমেরিকান ইউনিভার্সিটি, পান্থপথের গ্রিন ভ্যালি ইউনিভার্সিটি, গ্রিন রোডের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বিজনেজ এডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্স (এনআইবিএআইএস), দিলকুশার জিইএসএ বাংলাদেশ, উত্তরার ইএল ডিওআরএডিও, মোহাম্মদপুরের নিউরাল ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি, গুলশানের পারদানা কলেজ অব মালয়েশিয়া, চট্টগ্রামের ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি, উত্তরার দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বনানীর অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউট অব বিজনেজ টেকনোলজি, উত্তরার দ্য প্রোগ্রেসিভ ম্যারিটোক্রেসি লিমিটেড, জেমস কুক ইউনিভার্সিটি, নয়া পল্টনের ইউনিভার্সিটি অব বালারাত, খুলনার ওয়েস্ট কস্ট ইউনিভার্সিটি অব পানামা, বনানীর রয়েল রোর্ড ইউনিভার্সিটি, গুলশানের ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ কানাডা, ধানমন্ডির দ্য ল’ টিউটরস, সফট-ইডি লিমিটেড, ইউনিভার্সিটি অব লুটন, বনানীর ইউনিভার্সিটি অব নর্থ আমেরিকা, চট্টগ্রামের এজামশন ইউনিভার্সিটি (এবিএসি) থাইল্যান্ড, ধানমন্ডির সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজি, কলাবাগানের ড্যাফোডিলস ইনস্টিটিউট অব আইটি, সিলেটের ইনস্টিটিউট অব বিজনেজ এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি, ধানমন্ডির এসএএফএস ইন্টারন্যাশনাল, উত্তরার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আর্টস ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি, বনানীর সিএটি এসিসিএ প্রেসটোন ইউনিভার্সিটি, ধানমন্ডির ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ইউএসএ, খুলনার অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ধানমন্ডির ইউনিভার্সিটি অব হনলুলু, ভূঁইয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ ক্যাসেল, নিউরাল সিস্টেম লিমিটেড, আইবিসিএস প্রাইমেক্স লিমিটেড, রাজশাহীর ইউনিক কম্পিউটিং, ঢাকা সেন্টার ফর ল’ এন্ড ইকনোমিক্স, গুলশানের ব্রিটিশ স্কুল অব ল’, ঝিগাতলার আটলান্টিক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বনানীর এশিয়ান সেন্টার ফর ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব উলাংগং অস্ট্রেলিয়া, উত্তরার পিসব্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, নিউ ইস্কাটনের এসআর জিবিএইসি সেন্টার ফর বিজনেস স্টাডিজ, চট্টগ্রামের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ও খুলনার পানামা ইউনিভার্সিটি।

রকার এসব প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ ঘোষণা করে শিক্ষাকার্যক্রমের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দেয়। শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠান বìধ করে দেয়ার কথা বললেও সম্প্রতি তা নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা শুরু হয়। সেজন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে কিছু শর্তারোপ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইউজিসি কিছু নীতিমালাও প্রণয়ন করছে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ মাসের শেষ দিকে সরকারের কাছে পেশ করা হবে। এ নিয়ে গতকাল বিকেলে নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির একটি সভাও অনুাষ্ঠিত হয়। নীতিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণকারীরাই কেবল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। আর ব্যর্থদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্খা। এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা করা কিংবা ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রদান অবৈধ। চিহ্নিত এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে আমরা সতর্ক করে দিয়েছি। তবে তারা যদি স্টাডি সেন্টার হিসেবে এখানে পড়াতে চায় সেরকম অনুমোদনও নিতে হবে। আর তাদের আইনের কাঠামোয় নিয়ে আসতে নীতিমালা তৈরিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে যারা শিক্ষা বিস্তারে প্রকৃতপক্ষেই সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে তাদের শিক্ষাকার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত হবে।

জাকির হোসেন লিটন, দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৯ নভেম্বর ২০০৭

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s