Category Archives: Article

স্টাডিলাইন চালু করতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন

ইত্তেফাক রিপোর্ট, জুন ১৬, ২০০৯, মঙ্গলবার : ২ আষাঢ়, ১৪১৬

দেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক কল সেন্টার স্টাডিলাইন চালু করতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। এই সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকরা শিক্ষা সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন। আগস্ট থেকে এই সেবাটি চালু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সার্ভিসটি চালু করতে গ্রামীণফোনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে এভিস্তা টেকনোলজিস লিমিটেড। গতকাল সোমবার গ্রামীণফোন কার্যালয়ে এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গ্রামীণফোনের পক্ষে সিইও ওডভার হেশজেদাল ও এভিস্তা টেকনোলজির পক্ষে সিইও সৈয়দ খায়রুল হাসান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এসময় গ্রামীণফোনের সিইও বলেন, “গ্রামীণফোন সবসময়ই তার সাধারণ ব্যবসার বাইরে উদ্যোগ নিতে আগ্রহী। স্টাডিলাইন সেরকম একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে সমস্যায় পড়ে এবং যথাযথ তথ্যের অভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। স্টাডিলাইন চালু হওয়ার পর এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।

দৈনন্দিন জীবনের উপযোগী সেবা প্রদানের আগ্রহের ধারাবাহিকতায় গ্রামীণফোন স্টাডিলাইন সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে। যে কোন গ্রামীণফোন সংযোগ থেকে নির্দিষ্ট একটি নম্বরে ফোন করে এই সার্ভিসের মাধ্যমে স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য, সারা বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির পদ্ধতি, আইইএলটিএস, স্যাট, জিম্যাট, জিআরই ইত্যাদি পরীক্ষার তথ্য এবং অন্যান্য সেবা পাওয়া যাবে। স্টাডিলাইন এর লক্ষ্য হচ্ছে সঠিক ও সর্বশেষ তথ্য প্রচার করা, যা শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য কাছে নির্ভরযোগ্য মনে হবে।

Advertisements

ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসিতে ভর্তি

ইত্তেফাক রিপোর্ট, জুন ০৯, ২০০৯, মঙ্গলবার : ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪১৬

  • জিপিএ ৫-এর ক্ষেত্রে ৪৩ পয়েন্ট
  • একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার
  • ভর্তি আবেদনপত্র দশ টাকাসহ সর্বোচ্চ ৬০ টাকা
  • ভর্তির শেষ সময় ৭ জুলাই

সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজে ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে গতকাল সোমবার ভর্তির নীতিমালা ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী এ বছর কোন বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে কেবল এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। বিভাগীয় সদর ও জেলা সদরের কলেজে শতকরা ৮৮ ভাগ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ১২ ভাগ আসন বিভাগীয় ও জেলা সদরের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সকল বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৪৩ পয়েন্ট ধরে ক্রমান্বয়ে ৪০ পয়েন্টপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ দেয়া হবে। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে ৪০ পয়েন্টপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে সমান পয়েন্ট অর্জনের বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সাধারণ গণিত অথবা উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে পাঁচ পয়েন্টপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সমস্যার সমাধান না হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজী, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিজ্ঞানে অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায় আনা হবে। তাতেও সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকাস্থ শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার কেন্দ্রের সভাপতির কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের পারস্পরিক মেধাক্রম সংগ্রহ করে প্রার্থী বাছাই করবে। এ নীতিমালায় যাই থাকুক না কেন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। সমমেধাসম্পন্ন প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পোষ্যদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে দেশের যে কোন শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির যোগ্য হবে। বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়, মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার যে কোন একটি এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা নির্বাচন করতে পারবে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তিচ্ছুক আবেদনপত্র ফরমের মূল্য বাবদ ১০ টাকা এবং ভর্তি ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫০ টাকা মিলেয়ে মোট ৬০ টাকা রসিদ প্রদানসহ গ্রহণ করবে। এছাড়া ভর্তির সময় বোর্ড অনুমোদিত অন্যান্য ফিসহ রেজিষ্ট্রেশন ফি ৫০ টাকা, ক্রীড়া ফি ২৫ টাকা, রোভার স্কাউট বা গার্লস গাইড ফি ১০ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা, শাখা বা বিষয় পরিবর্তন ফি ২৫ টাকা, পাঠ বিরতি ফি ১০০ টাকা, বিলম্ব ভর্তি ফি ৫০ টাকা গ্রহণ করা যাবে।

কলেজসমূহ তাদের অবকাঠামো ও শিক্ষক সংখ্যা অনুসারে আসন সংখ্যা নির্ধারণ করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তির পূর্বেই শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করবে এবং বোর্ডসমূহ স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে অবস্থিত কলেজসমূহ এ বিধানের ব্যত্যয় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বোর্ড নির্ধারিত ফিসহ সকল ফি, আসন সংখ্যা, ভর্তির যোগ্যতা ইত্যাদি উল্লেখ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের নোটিস বোর্ডসহ যথাযথ প্রচারের ব্যবস্থা করবে। আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর কোন কলেজ এ নীতিমালা অনুযায়ী আসন সংখ্যার সমান সংখ্যক ভর্তিযোগ্য প্রার্থীদের একটি মেধাক্রম তালিকা এবং মোট আসন সংখ্যার ন্যূনতম ২৫ শতাংশ অপেক্ষমাণ মেধা তালিকা প্রকাশ করবে। ভর্তির সময় প্রার্থীকে মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা নম্বরপত্র ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রশংসাপত্র দাখিল করতে হবে।

২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তি ও ব্যাংক ড্রাফট করার শেষ তারিখ ৭ জুলাই। ক্লাস শুরু হবে ১২ জুলাই। বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের টটলিষ্ট, রেজিষ্ট্রেশন ফি ও মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা মার্কশিট বোর্ডে জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২০ জুলাই। বিলম্ব ফিসহ ভর্তি ও ব্যাংক ড্রাফট করার শেষ তারিখ ২০ জুলাই, বিলম্ব ফিসহ টটলিস্ট, রেজিষ্ট্রেশন ফি ও মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বোর্ডে জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৮ জুলাই। ব্যবহারিক ক্লাস শুরু করতে হবে ৩ আগস্ট।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক শিক্ষার্থীর শাখা বা বিষয় পরিবর্তনের ব্যাংক ড্রাফট করার শেষ তারিখ ১১ আগস্ট। শাখা বা বিষয় পরিবর্তনকারী শিক্ষার্থীর ব্যাংক ড্রাফটসহ তালিকা বোর্ডে পাঠানোর শেষ তারিখ ১৭ আগস্ট ও পূরণকৃত এসআইএফ শিক্ষা বোর্ডে জমাদানের শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন অবস্থাতেই কোন শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা নম্বরপত্র আটক রাখতে পারবে না।

eLearning Africa Conference Shows How ICTs Empower Education for All in Africa

Using examples from 60 countries, the 4th eLearning Africa conference, Africa’s largest event for learning technologies, will show how Information and Communication Technologies are helping African countries to reach the Millennium Goal of education for all. The eLearning Africa conference, which is to be held May 27th – 29th in Dakar, Senegal, will bring together ministers of education, senior government leaders, non-governmental organisations, school and university educators, developmental agencies and key business executives.

They will exchange ideas, learn about new educational technologies and share best practices for introducing and expanding educational technology in their communities.

eLearning Africa will be officially opened by the President of the Republic of Senegal, His Excellency Abdoulaye Wade, followed by a panel of highly renowned eLearning experts and executives from organisations and companies such as NEPAD, UNESCO and NComputing. Beginning on Wednesday with 19 pre-conference events, the event will feature 60 sessions and 20 best practice demonstrations that cover current aspects of eLearning development in Africa.

A Focus on M-Learning

Mobile learning is of particular interest in Africa, given the number of mobile devices available and the lack of reliable terrestrial Internet access. eLearning Africa 2009 features many interesting practical examples, such as m-learning for health-care workers, initiated by the Institute of Tropical Medicine in Belgium; mobile learning opportunities by l’Ecole Nomade in France; a study by the University of South Africa on the use of Mxit; and a partner programme of the Mid Sweden University and the Open University of Tanzania that uses mobile phones to enhance in-service teacher training.

Affordable and reliable Internet access solutions remain a challenge for most education and training practitioners in Africa. Presentation sessions in which access is discussed will include input from the Senegalese Government, the French Foreign Office, Computer Aid International and AfrISPA.

Universities: Drivers for Innovation

A session on university experience in putting in place effective technology-enhanced learning will feature presentations from universities including Université Cheikh Anta Diop dé Dakar, Senegal; University of Dar Es Salaam, Tanzania; Université de Nouakchott, Mauritania; and École des Sciences de l’Information, Morocco. They and many others will provide first-hand accounts of the opportunities and challenges they face.

Now in its fourth year, eLearning Africa has established itself as the key event on ICT for development, education and training on the African continent. Its mission is to bring people together who are actively engaged in education and in the implementation of learning technologies in schools, universities, corporate training programmes as well as in education in the public sector.

Participants are policymakers such as Ministers of Education, representatives from government agencies, non-governmental organisations (NGOs), development agencies and international organisations, senior executives from businesses, as well as practitioners from all fields of education. The conference will be held in both English and French.

Source: The Ghanaian Journal

Official website of Ms. Valerie A Taylor

Official website of Ms. Valerie A Taylor http://www.valerieataylor.com has been uploaded on the web, as the website development authority says few things will be updated very soon and fittingly tailored, those will be done sooner as they get the Official website of Valerie A Taylormaterials and hopefully it will be an ongoing process. They also welcomed the visitor’s of the site for their valuable comments and words in support of Valerie Taylor on the visitor’s book.

Valerie Ann Taylor, the founder of CRP, daughter of a reverend was born in 1944. Is from Buckinghamshire, England, first came to Bangladesh then known as East Pakistan, with Voluntary Service Overseas (VSO) in 1969 to work as a physiotherapist in Chandragona Hospital, near Chittagong. Valerie founded the CRP in 1979 in response to the desperate need for services for spinal injured patients, the Centre for the Rehabilitation of the Paralysed (CRP) has developed into an internationally respected organization later on.
CRP is the only organisation of its kind in Bangladesh, a country with a population of 140 million. The World Health Organisation (WHO) estimates that 10% of the population in Bangladesh are disabled.

People throughout Bangladesh are touched by the work of CRP. Community Based Rehabilitation (CBR) projects operate in 13 districts of the country. Accident and disability prevention programmes include research components and aim to educate vulnerable groups on safe working and living practises. Advocacy and networking activities bring CRP’s work to the attention of relevant officials and promote improved co-ordination among the many organisation with which CRP works. Awareness raising and publicity campaigns inform the population of relevant issues and attempt to break down the barriers, superstitions and stigmas which prevent disabled people from enjoying equal rights and opportunities.

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়- শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষকদের বিবেক

সাম্প্রতিককালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অনেকের মধ্যে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা, পরীক্ষার খাতা মাসের পর মাস আটকে রাখা, খাতা জমা না দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের চোখে ধাঁধা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কনসালটেন্সিতে নিয়োজিত থাকা, কোর্স ফাইনাল পরীক্ষার উত্তরপত্র হারিয়ে ফেলা, শিক্ষক রাজনীতিতে নিজেদের ব্য¯Í রাখাসহ শিক্ষা ছুটির নামে বছরের পর বছর বিদেশে কাটানোর বিভিন্ন সংবাদ আমরা পত্রিকার পাতায় পড়েছি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৭৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫শ’ জন বিভিন্ন ধরনের কনসালটেন্সি, ৩৯৩ জন উচ্চ শিক্ষার নামে বিদেশে এবং ৪০ থেকে ৪৫ জন ডেপুটেশনে রয়েছেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য এটি মোটেই শুভকর নয়। দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৭টি। এরমধ্যে ১৯৭৩’র অধ্যাদেশ অনুযায়ী দেশের বড় চারটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব আইনে চললেও অলিখিতভাবে ৭৩’র অধ্যাদেশের প্রভাব সেখানে বিদ্যমান। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে আবার আলাদা কিছু নীতিমালা। ৭৩’র অধ্যাদেশ শিক্ষকদের অবাধ স্বাধীনতা দিলেও জবাবদিহিতার তেমন কোন ব্যবস্থা এতে রাখা হয়নি। অধ্যাদেশ প্রণয়নের সময় শিক্ষকদের বিবেক এবং দায়িত্বশীলতার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকরা সেই দায়িত্বশীলপূর্ণ আচরণ যথাযথভাবে প্রদর্শন করতে পারেননি। তাই এখন নতুন করে দাবী উঠেছে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করার। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো ছাড়াও আমাদের দেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করেছে।

এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু রয়েছে। শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো সেখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় তা হলো নিয়মিত ও সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হওয়া, ক্লাস লেকচার উপস্থাপনের ধরন ও গভীরতা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্স সমাপন, সময়মতো পরীক্ষা নেয়া প্রভৃতি। প্রতি সেমিষ্টারেই শিক্ষক মূল্যায়ন হয়। শিক্ষক মূল্যায়নের কাজটি করেন ছাত্ররাই। মূল্যায়ন শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত বা মৌখিকভাবে এর ফলাফল জানিয়ে দেয়। ফলাফলের ভিত্তিতে ধন্যবাদ অথবা সংশোধনের সুযোগ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ফলাফল কয়েকবার নেতিবাচক হলে এবং পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে চাকরিও হারাতে হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষকরা নিজেদের প্রয়োজনেই নিয়ম-কানুন মেনে চলবেন এবং উচ্চ শিক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের মুক্তি হলো-এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ছাত্রদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিবে এবং ছাত্রদের খেয়াল খুশীমতো শিক্ষকদের কথাবার্তা বলতে হবে। ছাত্রদের কট‚ কথা কিংবা তিরষ্কার করা যাবে না। ছাত্রদের মর্জির উপর শিক্ষকদের চলতে হবে। এককথায় শিক্ষকদের কোন স্বাধীনতাই থাকবে না। শিক্ষকতা পেশা তার স্বকীয়তা হারাবে। শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তনের কথা বলতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জাতীয় প্রেসক্লাবের উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে বলেছিলেন আর কিছু না হোক অন্তত যে শিক্ষক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোর্স ফাইনাল পরীক্ষার খাতা জমা দেননি কিংবা ইনকোর্স টিউটোরিয়ালের নম্বর আটকে রেখেছেন তার নামটা বিভাগের নোটিস বোর্ডে টানিয়ে দিতে হবে। এতে কিছুটা হলেও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে তার বিশ্বাস। আমার মতে শুধু এটি নয় একই সাথে বিভাগের নোটিস বোর্ডে আরো টানিয়ে দিতে হবে কোন শিক্ষক যথাসময়ে খাতা জমা দিয়েছেন, কে দেননি, কার জন্য ফলাফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কোর্সে কে কয়টি ক্লাস নিয়েছেন প্রভৃতি। কারণ একজন শিক্ষকের দায় বিভাগের সকল শিক্ষক বহন করতে পারেন না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি নবীন শিক্ষকদের ক্লাস নিতে নিতে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা অপরদিকে অনেক শিক্ষক মাসের পর মাস সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই ক্লাস নেন না। অনেক শিক্ষকের এ অবস্থা দেখে অনেক তরুণ শিক্ষককে হতাশ কণ্ঠে বলতে শুনেছি বেশী ক্লাস নিয়ে কি হবে? কি লাভ এতে? সিনিয়রদের এ অবস্থা দেখে সদ্য নিয়োগ পাওয়া জুনিয়র শিক্ষকরা ক্লাস না নেয়ার ব্যাপারে উৎসাহ পায়। এখানেই পাবলিক এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তফাৎ।

সবশেষে বলা যায়, আমাদের এ সমাজে আমরা কেউই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নই। প্রত্যেককেই তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। শিক্ষকরাও এ সমাজের অংশ। তাদেরকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে চলমান আইন পরিমার্জন ও পরিবর্ধন এবং তাতে না হলে নতুন আইন তৈরি করতে হবে।

আরেকটি বিষয় এখানে আসছে তা হলো শিক্ষকদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা। এটি অত্যন্ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শাস্তির ভয়ে হয়তো মানুষ আইন মান্য করে তবে আইন মানুষকে সবসময় সঠিকপথে পরিচালনা করতে পারে না। তাই এ ক্ষেত্রে বিবেকের প্রশ্নটিই বড় করে দেখা দেয়। আইন যতটুকু না শক্তিশালী তার চেয়ে বিবেক অনেক বেশিমাত্রায় শক্তিশালী। আইনের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে তবে আইনই একমাত্র শেষ কথা নয়। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে আইন যতটুকু না ভূমিকা রাখবে তার চেয়ে অনেক বেশি ও কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে তাদের বিবেক।

কোন লোভের বশবর্তী হয়ে শিক্ষকরা এ পেশায় আসেননি। বরং মহান পেশার কথা বিবেচনা করেই সকলেই এই পেশায় এসেছেন। অর্থ-বিত্ত যাদের কাছে অধিকমাত্রায় গুরুত্ব পায় না সেখানে বিবেকের দাপট অনেক বেশি বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রাখি। পরিশেষে দেশের অন্যতম বুদ্ধিজীবী প্রফেসর মোজাফফর আহমদের এ সংক্রান্ত একটি বক্তব্য দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানতে চাই “বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাতে হলে শিক্ষকদের মূল্যবোধ জাগ্রত করতেই হবে।” প্রত্যাশা শিক্ষকদের বিবেক জাগ্রত হোক।

সাহাবুল হক
[লেখক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক]
দৈনিক ইত্তেফাক, জুন ১০, ২০০৭, রবিবার

সিআরপি নিয়ে চক্রান্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সাভারের

চাপাইনবাসী

।। সাভার সংবাদদাতা ।।
দৈনিক ইত্তেফাক, জুন ০৯, ২০০৭, শনিবার

এদেশের অসহায় প্রতিবন্ধীদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য যিনি নিজেকে উৎসর্গ করে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেছেন, প্রতিবন্ধীদেরকে যিনি নিজ হাতে সেবা দিয়ে সারিয়ে তুলেছেন, সেই ভেলরী এ টেইলরকে আজ তারই গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেয়ার হীন চক্রান্ত চলছে। অত্যন্ত আক্ষেপের স্বরে এ কথাগুলো বললেন সাভারের চাপাইন এলাকার একাধিক ব্যক্তি।

গত বুধবার সকালে এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক সাভারের চাপাইন এলাকাস্থ ‘পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) পরিদর্শন করবেন এ সংবাদ পেয়ে প্রতিবন্ধী শওকত, মলিনা, হুমায়ূন, সবুজ, কামরুলসহ ২০/২৫ জন প্রতিবন্ধী ক্র্যাচে ভর দিয়ে ও হুইল চেয়ারে বসে সিআরপি’র গেইটের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। সকালে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত সম্পর্কে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করেন। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক সেখানে এসে পৌঁছলে দু’শ’ এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি মহাপরিচালককে প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত প্রতিবন্ধীরা বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড বহন করে।

চাপাইন এলাকাবাসী ও উপস্থিত প্রতিবন্ধীরা জানান, এক সময় চাপাইন গ্রামটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকা ছিল। ভেলরী এ টেইলর ১৯৮৯ সালে চাপাইনে সিআরপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ অঞ্চল আধুনিক উপ-শহরে পরিণত হয়। সিআরপি’র ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্য এবং সিআরপি’র ৪ জন পরিচালক ও আরো কয়েকজন স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তা ভেলরী এ টেইলরকে এ প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেয়ার হীন চক্রান্ত করছেন। তারা সিআরপি তথা দেশের প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণার্থে অবিলম্বে এসব কুচক্রীদেরকে স্বেচ্ছায় সিআরপি থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ভেলরী এ টেইলরসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন এবং সিআরপি ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

সিআরপি’র মূল অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে : বেতন ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ১২ জুন ২০০৭

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) প্রধান অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। সিআরপি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, সিআরপি’র মূল অ্যাকাউন্ট রয়েছে স্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে। অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী মাস থেকে এ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত স্টাফরা বেতন না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এ কারণে তারা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন সিআরপিতে সৃষ্ট অচলাবস্খার সমাধান করার জন্য। মূল সিআরপিসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শাখার ২৭৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি এ টেইলরের কাছে সর্বময় ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়ে সিআরপি’র সব ট্রাস্টির পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে। স্মারকলিপিতে তারা বলেছেন, ‘কিছু হীন মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করায় নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান থেকেই ভ্যালেরিকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। আমরা অবগত হয়েছি যে সিআরপি ট্রাস্টি বোর্ড ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সরকারের বিভিন্ন সংস্খায় প্রতিবেদন পাঠিয়ে বলা হচ্ছে ট্রাস্টিদের কর্মকাণ্ডে স্টাফদের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে তাদের এ দাবির বিরোধিতা করছি।’ সিআরপি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে স্থানীয় ব্যাংকে যে অ্যাকাউন্ট আছে তা থেকে সিআরপি’র দৈনন্দিন খরচ মেটানো হচ্ছে। তবে এটা বেশিদিন টিকবে না। আগামী মাস থেকেই সিআরপি’র স্টাফদের প্রায় কোটি টাকার মতো বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে প্রধান অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। জানা গেছে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সাথে সিআরপি’র ক’জন ট্রাস্টি বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার জন্য দেনদরবার করছেন। আরো জানা গেছে, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও উপদেষ্টা সি এম শফি সামী আনোয়ার চৌধুরীর মাধ্যমে চাচ্ছেন ভ্যালেরির সাথে একটি সমঝোতায় আসতে। উল্লেখ্য, দেশের বাইরে থেকে ২২ শতাংশ ডোনেশন আসে সিআরপি’র। এ উদ্দেশ্যে ক’দিন আগে আনোয়ার চৌধুরী ট্রাস্টিদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে আনোয়ার চৌধুরী সিআরপি’র অচলাবস্খা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে কোনো প্রকার ঐকমত্য ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সিআরপি’র অচলাবস্খা নিরসনে গঠিত নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাস্টিদের পদত্যাগ করার জন্য। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু ট্রাস্টিদের মধ্যে বর্তমানে কোনো ট্রাস্ট (বিশ্বাস) নেই, তারা সিআরপি’র স্বার্থে একযোগে কাজ করতে পারছেন না। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি এ টেইলরের কাছে সব ক্ষমতা দিয়ে সব ট্রাস্টিকে পদত্যাগ করতে হবে।